বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৯৮
গল্প/কবিতা: ২৪টি

সমন্বিত স্কোর

২.৭১

বিচারক স্কোরঃ ১.২১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

ওপারের চিঠি

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

ভয়

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

সুখের আশায়

কামনা আগস্ট ২০১৭

গল্প - ঋণ (জুলাই ২০১৭)

মোট ভোট ১০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৭১ ভালোবাসার ঋণ

ইমরানুল হক বেলাল
comment ১১  favorite ০  import_contacts ১৪৯
ছেলেবেলা থেকেই আমার লেখালেখির অভ্যাস।
শৈশব-কিশোর পেরিয়ে সেই ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রবন্ধ, ছোট গল্প ও রোমান্টিক ধরনের লেখা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখতাম। আমার ব্যক্তিগত হৃদঘটিত ছোট ছোট দুঃখ-কষ্ট স্মৃতি, হতাশা আর ব্যর্থতাকে ঘিরে একটি গল্প তার দৃষ্টিগোচর হয়। আমার লেখাটা তার হৃদয় মুগ্ধ করেছে তা বুঝতে পেরেছিলাম এক রাতে হঠাৎ মুঠোফোনে একটি রোমান্টিক বার্তা আসায়।
হঠাৎ কেমন যেন সব বিষণ্নতা কেটে গেলো আমার। মনের মধ্যে শুরু হয় এক অন্যরকম স্পন্দন অনুভূতি। বেশ কৌতুহল হৃদয়ে প্ৰশ্ন জেগে ওঠে কে সেই মেয়েটি? আমার কাছে কি চায়?
কী-ই-বা তার উদ্দেশ্য? এমন একটা উড়ন্ত বার্তা দেওয়ার অর্থই বা কী?
সঙ্গে সঙ্গে আমি কল করলে একটা মেয়েলি সুর কানে ভেসে ওঠে-
'কি হে বন্ধু, আমি কি তোমার সুখ-দুঃখের সঙ্গী হতে পারি?'
তার পর বললো যে আমার ফোন নাম্বারটা নাকি কোনো এক সাহিত্য আড্ডা থেকে ও টুকে নিয়েছিল। সেই থেকেই তানিয়ার সাথে আমার পরিচয় হয়। শুরুতে বন্ধুত্ব, অতঃপর ভালোবাসা।
কলেজে পড়ুয়া পূর্ণ যৌবনা সুন্দরী তরুণী।
আমরা পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদিনই দেখা করতাম।
তানিয়া শুধু সুন্দরীই নয়, রূপে বর্ণে উজ্জ্বল পরী।
গোলাপ যেখানে থাকবে সেতো সুগন্ধ ছড়াবেই।
তাই করুণা ও আমার হৃদয়কে ফুলে ফুলে ভালোবাসার ফুলের গন্ধরেণু উজাড় করে ভরিয়ে দিতে চায়। আমার একাকীত্বের নিঃসঙ্গ জীবনের যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিতে চায়। তানিয়ার প্রতি আমার হৃদয়ে গভীর ভালোবাসার জন্ম নিয়েছিল এই জন্য যখন আমি ওর পাশে বসে রোমাঞ্চকর গল্প করতাম আর তানিয়া সে সব গল্প মন দিয়ে শুনতো; তার হাতে জরুরি কোনো কাজ থাকলেও সে তাড়াতাড়ি করে সেরে আবার গল্প শুনতে বসতো। লক্ষ করতাম আমার দুঃখের কথা শুনে তানিয়াৱ চোখ থেকে টপ টপ করে জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তো। মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠতো, কি অদ্ভুত! কিংবা, কি দুঃখের! আর বলো না! কিন্তু গল্পের শেষে সে ধন্যবাদ জানাতেও ভুলেনি। এক সময় আমি ইঙ্গিত পেলাম যে সে আমাকে গভীরভাবে ভালোবেসেছে। সে ভালোবাসে এই জন্যে যে আমি নানা বিপদ-আপদকে অতিক্রম করে এসেছি। আমি তাকে ভালবাসলাম এই জন্য যে সে আমার দুঃখে দুঃখ
পায় এই ভেবে। দু'জনে পাশাপাশি বসলে কখনো কখনো ও আমাকে কবিতা পাঠ করার অনুরোধ করতো আমি তা আবৃত্তি করে শোনাতাম।
কখনো আমরা দু'জনে এক সঙ্গে বৃষ্টির জলে ভিজতাম। আর গাছ থেকে কুড়িয়ে কদম ফুল তার চুলের খোঁপায় গুজে দিতাম। কখনো বা চাঁদনি রাতে ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে গান গেয়ে শোনাতো সে। ওর কন্ঠস্বরটা ছিল মিষ্টি।
গান শুনে আমি যেন মোহিত হয়ে যেতাম।
এই ভাবেই তানিয়া আমার হৃদয় কেড়ে নিলো। এভাবে দিনের পর দিন তিল তিল করে স্বর্গের আলোর মতো বেড়ে ওঠে ত্রুমশ আমাদের পবিত্র বন্ধন। পরস্পরের প্রিয়-অপ্রিয় পছন্দ-অপছন্দের কথা, একান্ত ভাবনা সমস্ত অনুভূতি দিয়ে নির্মাণ করি এক নিটোল ভালোবাসার রাজপ্রাসাদ। যেখানে ছিল শুধু স্বৰ্গীয় প্রেম,নিস্কাম ভালোবাসা। তখন মনে হতো ভালোবাসা কি মিষ্টি! জীবনটা কী মিষ্টি! কত মধুর আমাদের এই জীবন!
ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকা তার প্রিয় শখ। আকাশের নীল রঙ তার খুব প্রিয়। গোলাপ, বেলি, রজনীগন্ধা তার অতি প্রিয় পছন্দের ফুল। তারা ভরা রাতের আকাশের পানে চেয়ে থাকতে খুব ভালোবাসে সে। আমাকে সে আরো জানিয়েছিল, পৃথিবীটাকে নিয়ে ভাবার মতো এমন কাউকে পায়নি সে। তার বন্ধুসুলভ মনকে ভালোবাসার মতো কেউ সাড়া দেয় না।
এখনকার যুগের ছেলেদের ভালোবাসা নাকি হৃদয়ে নয় চোখে। সবাই নাকি ওর শরীরটাকেই পেতে চায়। আর সে জন্য হতাশা তার মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে। যদিও আমরা পরস্পরের একান্ত আপন করে ভালোবাসা সাজাই, পুরোনো দিনের সব প্রেমের জ্বালা নিভে যাবে।
এভাবে আমাদের দিন যেন আর কাটতে চায় না।
আমাদের স্বপ্ন ছিলো, দীর্ঘদিনের লালিত ভালোবাসা জড়িয়ে দু'জনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবো। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন আর পূর্ণ হলো না।
ভালোবাসা অপূর্ণই থেকে গেল। আমি যে ব্যাচেলর ঘরে থাকতাম আমাদের কাছ থেকে একটু দূরেই ছিল তানিয়াদের বাসা। হঠাৎ একদিন জানতে পারলাম আমাদের সম্পর্কের কথা তানিয়ার বাবা-মায়ের কানে চলে যায়।
সে জন্যে তানিয়া তার বড় ভাইয়ের কাছে মার খেয়েছে। পরে সে জানালো, তাঁর পরিবার এখান থেকে বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তোমার সঙ্গে হয়ত আর দেখা করতে পারবো না। ভালো থেকো, শরীরের প্রতি সব সময়ই যত্ন নিও...। সময় পেলেই তোমার কাছে ছুটে আসবো। এই কথা বলতে বলতে বিদায় ক্ষণে তার দু'চোখ ছলছল করছিল। শুধু সামলাতে না পেরে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। তার সেই কান্না সফেন ঢেউয়ের স্রোতের মতো দূরে সরে যায়। আর আমার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে আলোড়ন তুলে এক অদ্ভুত নীল কষ্ট! যাবার বেলায় কান্না জড়ানো কন্ঠে বলেছিল প্রতিদিন ফোনে কথা হবে।...নিস্তলভাবে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, ভালো থেকো, খু-উ-ব ভালো। তার চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখে বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে।
তাই বলে তবু ও আমাদের ফোনে কথা বলা থেমে থাকেনি। দু’জনে চৌদ্দ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে দেখা করবো বলে সিদ্ধান্ত নিই।
কিন্তু বিধি হল বাম!
আমার পাঠানো এস এম এস গুলো তানিয়ার বাবার নজরে পড়ে গেল ।
সেইদিন থেকেই তানিয়ার মুঠোফোন বন্ধ ।
যতোবারই ডায়াল করি ততবারই বেরসিক অপারেটর বলে, 'এই মুহূর্তে আপনার কাঙ্ক্ষিত নাম্বারটি সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।'
হঠাৎ কেন এমন হলো?
তার পর থেকে আর তানিয়ার সন্ধান মেলেনি ।
শত চেষ্টা করেও জানতে পারিনি আমার তানিয়া আজ কোথায় আছে, কেমন আছে, বেঁচে আছে না মরে ।
নিজেকে বারবার প্রশ্ন,
মেয়েটি কি সত্যিই আমাকে ভালোবেসেছিল?
নাকি এটা ছিল তার রহস্যময়তা?
কিন্তু তানিয়ার ওই সুন্দর মুখে কি পাপ লুকিয়ে থাকতে পারে?
ভালোবাসা মানেই যদি বেদনা-কষ্ট পাওয়া তাহলে ভালোবাসা কে-ন-ই বা মানুষের জীবনে আসে!
কে-ন-ই বা প্রয়োজন হয় এই অনর্থক অর্থহীন ভালোবাসার!
তার দেওয়া ভালোবাসার উপহার হাতের আংটির ওপর চেয়ে থাকি প্রতিক্ষণে ।
আজো প্রতিটি অলস মুহূর্তে মনে পড়ে তার সাথে শেষ দেখা শেষ বিদায়ের সেই করুণ স্মৃতিটা ।
ভেসে ওঠে সব স্মৃতি যখন তখন ।
মনে মনে বিড় বিড় করে বলি,
হে আমার পথভোলা অনন্তকালের বন্ধু প্রিয় তানিয়া, তোমার প্রতি আমার এই প্রেম ছিল স্বর্গের আলোর মতো সত্য।
জানি হয়তো বা এ জনমে আর তোমার সাথে সাক্ষাৎ হবে না ।
তবে তোমার দেওয়া এই ঐশ্বরিক
"ভালোবাসার ঋণ" আমি কোনোদিন শোধ করতে পারবো না।
জানি না এখন তুমি কোথায় আছ,কেমন আছ,
যেখানে থাক,যেভাবেই থাকো ভালো থেকো, সুখে থেকো, তোমার ভবিষ্যৎ জীবন চির সুন্দর হোক ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন