বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ অক্টোবর ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ২টি

সমন্বিত স্কোর

৩.১৫

বিচারক স্কোরঃ ১.৩৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

গল্প - ভৌতিক (সেপ্টেম্বর ২০১৭)

মোট ভোট ১২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.১৫ বটতলার হাট

মিলন মুহাম্মদ
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৬৮
আজাদ সাহেবের এক ছেলে। নাঈম। ঢাকা শহরে জন্ম ঢাকা শহরেই বেড়ে ওঠা। সেই বাচ্চা কালে একবার বাবার সাথে গ্রামে গিয়েছিলো তারপর কেটে গেছে অনেক অনেক দিন; গ্রামের দিকে তাদের আর মুখ ঘোড়ানোর ফুরসৎ হয়নি। কিন্তু ওর বাবার খুব ইচ্ছে তার সন্তন শহরে বড় হলেও শেকড় যেন ভুলে না যায়।
নাঈমের এসএসসি পরীক্ষা শেষ, হাতে দীর্ঘ অবসর। তাই আজাদ সাহেব ছেলেকে বললেন, “এ ক’দিন ঢাকায় শুয়ে বসে সময় নষ্ট না করে গ্রাম থেকে ঘুরে আসবি নাকি? ওখানে তোর চাচা-জেঠুরা আছে; আদর যত্নের কোন অভাব হবে না।”
বাবার প্রস্তাবে নাঈম মহা খুশি। শহরের যান্ত্রিক জীবনে সে যে হাপিয়ে উঠেছে সেটা চোখ-মুখ দেখলেই বোঝা যায়। দিনক্ষন ঠিক হলো, ট্রেনের টিকিট কাটা হলো। তখন ছিলো মার্চ মাসের মাঝামাঝি, বাংলার বসন্ত কাল। শহরে গরম পরলেও গ্রামের রাতে হালকা শীত আছে, কুয়াশা পরে, ঝড়বৃষ্টির ভয়ও আছে।
যাওয়ার আগের রাতে আজাদ সাহেব জানিয়ে দিলেন, কিভাবে যেতে হবে। গ্রামের নাম নলডাঙা। জেলা শহর গাইবান্ধা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার। নলডাঙাতেও স্টেশন আছে তবে তাকে নামতে হবে জেলা শহরেই। আত্ননগর ট্রেনের টিকেট কাটা হয়েছে, এই ট্রেন সব স্টেশনে দাড়ায় না। সেখান থেকে বাকি পথ অটোরিক্সায়। বাড়িতে খবর দেয়া হয়েছে তাকে নিতে স্টেশনে লোক আসবে।
পরদিন সকালে নাঈম ট্রেনে উঠে রওনা দিলো গ্রামের পথে। মনে চাপা আনন্দ। শহর পেড়িয়ে গ্রামের মাঠ-ঘাট ছাড়িয়ে ট্রেন ছুটছে আর সে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছে দুই পাশের অপার সৌন্দর্য্য। উত্তেজনায় দুপুরে খাওয়ার কথাও ভূলে গেল সে। ট্রেন যখন গাইবান্ধা স্টেশনে পৌচ্ছালো তখন বিকাল সাড়ে পাঁচটা পার হয়ে গেছে। প্লাটফর্ম থেকে বাইরে এসে দেখলো অনেক অটোরিক্সা দাড়িয়ে আছে। কিন্তু তাকে নেওয়ার জন্য এসেছে এমন কাউকে পেলনা সে। সে ভাবলো তাকে তো কেউ চেনে না খুজেও পাবে না, সুতরাং অযথা সময় নষ্ট করে লাভ নেই বরং নিজেই রওনা দেই।
কিন্তু কোন অটোই নলডাঙা যেতে রাজি হচ্ছে না। নাঈম একজন রিক্সাওয়ালাকে বললো, “মামা, কি ব্যাপার বলোতো, কেউ নলডাঙা যেতে চাচ্ছে না কেন?”
রিক্সাওয়ালা বললো. “আইজকা আর ঐ রাস্তায় কেউ যাবি না, ঘাটার মদেই রাইত হয়্যা যাবি। পাছে বটতলা পার হবার সুমায় কোন বিপদে পরবো কে জানে।”
নাঈম কিছুটা অবাক হলেও অটোওয়ালার মুখে খোড়া অযুহাত শুনে কিছুটা রেগে গেল। পরে নিজের রাগ নিবৃত করলো। মনে মনে ভাবলো, বটতলার হাটে হয়তো চোড়-ডাকাতের ভয় আছে।
একটু পরেই তার বয়সি একটা ছেলে অটোরিক্সা নিয়ে এসে সামনে দাড়ালো। কুচকুচে চেহাড়া, কোকড়ানো চুল, মোটা কালো ঠোটের মাঝে জ্বলন্ত সিগারেট। দেখেই মনে হয় ছেলেটি সাহসী। নাঈম বললো, “এই নলডাঙা যাবে নাকি?”
রিক্সাওয়ালা বললো- “হুম যামু। ভাড়া লাগবি ৬০ ট্যাকা।” নাঈম বললো- “ঠিক আছে দেব, কিন্তু বটতলার রাস্তা দিয়ে যাবো না।”
রিক্সাওয়ালা ছেলেটা খেক খেক করে এক গাল হেসে বললো- “দেখ্যাতো শহরের শিক্ষিত মানুষ মনে হবার নাগচে। আপনেও এংকা কতা বিশ্বাস করিচ্চেন! ভয় করিচ্চেন, হেহেহে।”
নাঈম জানতে চাইলো-“কিসের কথা বলছো তুমি?” রিক্সাওয়ালা তার ঝকঝকে সাদা দাত বের করে জবাব দিলো- “ভূত! বটতলায় রাতের বেলা ভূতেরা হাট বসায়।”
নাঈমের মনে হলো কিছুটা ইগোতে আঘাত হেনেছে। শহরের ছেলে আর তাকে কিনা দেখায় ভুতের ভয়। ফট করেই বলে ফেললো- “কিসের ভূতের ভয় হে। চলো তারাতারি। এমনিতেই দুপুরে খাওয়া হয়নি। নষ্ট করার মত সময় হাতে নাই।”
রিক্সাওয়ালা নাঈমকে উঠিয়ে যাত্রা শুরু করলো। ইতোমধ্যে ঘড়িতে ছয়টা বেজে গেছে। একটু পরেই মাগরিবের আযান দিলো। মনে মনে নিজেকে এই বলে সান্তনা দিলো- “ভূত বলে কিছু নেই।” কিছুক্ষনের মাঝেই শহরের কোলাহল ছেড়ে অটো এসে উঠলো গ্রামের রাস্তায়। দুই দিকে ধানের ক্ষেত। হালকা কুয়াশাও পরেছে, ক্ষেতের ঐ পারের বাড়ি-ঘরগুলো ঠিকমত দেখা যায় না। একটু শীতও করছে দু’জনের।
পথে একটু এগুতেই ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে এলো। তবে আযান দিয়েছে বেশিক্ষন হয়নি, বুঝতে পেলো গ্রামে সন্ধ্যা একটু দ্রুতই আসে।
অটো চলছে ভো ভো শব্দ করে। ছেলেটি একটু পর পর সিগারেট ধরাচ্ছে আর আরাম করে টানছে। কিছুদুর যেতেই হঠাৎ পিছনের ডান দিকের চাকাটা কান ফাটানো শব্দে ফটাস করে ফেটে গেল। শক্তি সামর্থবান ছেলেটি সাথে সাথেই ব্রেক করে দুর্ঘটনার কবল থেকে বাঁচালো। তারপর অটো থেকে নেমে খানিকটা আফসোসের সুরে বললো- “চাকাটা কাইলক্যাই সাড়াইলাম, আইজ আবার ফাইটলো।” বলতে বলতে সিটের নিচ থেকে আরেকট চাকা বের করে অন্ধকারের মাঝেই বদলাতে লাগলো। নাঈম অটো থেকে নেমে ব্যাগ থেকে সোয়েটার বের করে পরে নিলো। সে দেখলো পশ্চিম আকাশটা দ্রুতই কালো হয়ে যাচ্ছে। ঝড় আসবে মনে হয়।
রিক্সাওয়ালাকে তাগিদ দিয়ে বললো- “কিরে, চাঁকা বদলাতে, আর কত সময় লাগবে?” “এইতো হয়্যা গেছে, উঠ্যা বসেন”- জবাব দিলো ছেলেটি।
অটো আবার চলতে আরম্ভ করলো। নাঈম জানতে চাইলো- আর কত দূর যেতে হবে? ছেলেটি বললো- “সামনেই বটতলার হাট, তারপর আর ৪-৫ কিলো গ্যালেই নলডাঙা।”
ইতোমধ্যে শো শো করে বাতাস বইতে শুরু করেছে, সাথে ঝিড়ঝিড়ি বৃষ্টি। তবুও অটোর হ্যান্ডেল শক্ত করে ধরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ছেলেটি। মুহুর্তের মাঝেই তুমুল ঝড় শুরু হলো। বটতলার কাছে আসতেই অটো যেন আর পোষ মানছে না।
নাঈমের কানে, কাছে কোথাও মানুষের চিৎকার চেচামেচির শব্দ এলো- “ধর-ধর, পালালো, পালোলো, ঐযে ঐযে।” দূরে দেখলো কিছু মানুষ হাতে লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে আসছে তাদেরেই দিকে। কিন্তু কাছে আসতেই মিলিয়ে গেল কোথায় যেন। এ দৃশ্য দেখে ভয়ে কুকড়ে উঠলো তারা।
অটোচালক ছেলেটিও পিছনে ঘুরে ভয়ার্ত মুখে একবার বললো- “ভাইজান আইজক্যা কি আমাবইস্যা?” “সেটা আমি জানি নাকি”- দাঁত কুড়মুড়িয়ে উত্তর দিলো নাঈম। কথা শেষ হওয়ার আগেই ছেলেটি “ও মাগো” চিৎকার দিয়ে অটো ফেলেই ক্ষেতের মাঝ দিয়ে দিলো একটা ভো-দৌড়। নাঈম হকচকিয়ে ডেকে উঠলো- “এই এই, আমাকে ফেলে কোথায় যাচ্ছো?” কিন্তু কে শোনে কার কথা। ছেলেটি যেন পালাতে পারলেই বাঁচে। এদিকে তার বুকের মাঝে হৃদপিন্ডটাকে কে যেন হাতুড়ি পেটানো শুরু করছে। কোন দিকে সস্তি নিয়ে তাকানোর সাহসও পাচ্ছে না সে।
ঝড়ের রাগ কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে কিন্তু বৃষ্টি আছে। বাকি পথটুকু যে হেটেই যেতে হবে সেটা অনুমান করে অটো থেকে নেমে পরলো সে। ভয় যতই লাগুক যেতেতো হবেই। যতই বটগাছের কাছাকাছি হচ্ছে মানুষের শোরগোল ততই স্পষ্ট হচ্ছে। কে যেন কাকে বলছে- “হ্যা হ্যা, মাথাত কুপ মার, মাথাত। মাইরা ফালা সবটিরে, মার।” কিন্তু কাছে কোথাও কাউকেই দেখা যায় না। এদিকে বৃষ্টিতে একেবারে কাকভেজা হয়ে গেছে সে। আরেকটু এগুতেই পাশের জমিতে তিন-চারজন মানুষকে দেখতে পেল। ডাক দিবে কিনা ভাবতে না ভাবতেই দেখলো, তাদের ভয়ংকর চেহাড়া, সারা শরীর রক্তে মাখা। দল বেধে একজনকে মাটিতে ফেলে কোপাচ্ছে। নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না। এভাবে কেউ কাউকে কোপাতে পারে? একেকটি কোপের সাথে সাথে যেন ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে মাটিতে থাকা মানুষটির শরীর থেকে। মুখ থেকে না চাইতেই “ইস” আওয়াজ বেড়িয়ে এলো। মানুষগুলোর একজন পিছন ফিরে তাকে একবার দেখে নিলো। কিন্তু তার প্রতি তাদের যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। মুখ ঘুড়িয়ে আবার কোপাতে লাগলো। নাঈম দম বন্ধ করে সামনের দিকে দৌড় শুরু করলো। সে যখন ঠিক বটগাছের নিচে তখন দেখলো গাছের ডান ও বাম দিকে দুটি রাস্তা। কিন্তু কোন রাস্তায় যাবে সেটা জানা নেই তার।
নাঈম ভাবলো- “ডান দিকেই যাই। ওদিক থেকে আওয়াজ আসছে, মানুষ থাকতে পারে। তাকে জিঙাসা করে জেনে নিবো।” কয়েক পা এগুতেই আবছা অন্ধকারে তিনজন মানুষকে দেখলো মাটিতে শুয়ে আছে। পাশেই কয়েকটি হিংস্র কুকুর, অন্ধকারে চোখগুলো জ্বল জ্বল করছে। কামড়ে কামড়ে মানুষগুলোর শরীর থেকে মাংস ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে। বুঝতে বাকি রইলো না এগুলো মানুষ না “লাশ”, “একদম তাজা লাশ”। তাকে দেখতে পেয়ে কুকুরগুলো যেন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠলো। তীক্ষ ধাড়ালো দাঁত বের করে ঘেউ ঘেউ করতে করতে তার দিকেই এগিয়ে এলো। নাঈম মাটিতে পরে থাকা একটা ইটের টুকরা হাতে নিয়ে ঢিল দেওয়ার ভান করতেই খানিকটা পিছিয়ে গেল কুকুরগুলো।
নাঈম প্রাণপনে আবার দৌড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু মনে হচ্ছে কিছু মানুষ হয়তো তারই পিছে পিছে দৌড়াচ্ছে। তাদেরও হয়তো কেউ তাড়া করছে। ধরতে পারলেই কুপিয়ে মেরে ফেলবে। কিন্তু তার সাহস হলো না পেছন তাকানোড়। নাঈম যতই দৌড়ায় না কেন পথ যেন শেষ হয় না। বৃষ্টির মাঝেও গলা শুকিয়ে তার একেবারে কাঠ হয়ে এলো। শরীরের সমস্ত শক্তি যেন শেষ। মাটিতে বসে পরলো সে। কিন্তু একি! মাটিতে এগুলো কিসের হাড়গোড় পরে আছে। মনে হচ্ছে মৃত মানুষের কংকাল। হঠাৎ সে দেখলো, রাস্তার দুই দিক থেকে ফসলি ক্ষেতের মাঝ দিয়ে ছুটে আসছে দুইদল কংকাল। তাদের প্রত্যেকের হাতে ধাড়ালো অস্ত্র, টেটা, বল্লম, তীর-ধনুক। রাস্তার দু’দিকে এসে দাড়িয়ে এক দল অন্য দলকে লক্ষ্য করে তার মাথার উপর দিয়ে অস্ত্রগুলো ছুড়ে মারছে। আর তাতেই কংকালগুলোর শরীর থেকে হাড়গোড় খুলে খুলে যাচ্ছে। তার যেন সমস্ত ঘটনাকে স্বপ্নের মত হচ্ছে। এভাবে থাকতে থাকতে কে কখন অজ্ঞান হয়ে গেছে জানা নেই।
পরের দিন সে নিজেকে আবিস্কার করলো একটি ঘরে বিছানায় শুয়ে আছে। পাশে বসে আছে একটা দাড়ি-টুপি পরা মাওলানা গোছের বৃদ্ধ মানুষ। চোখ খুলতেই পিছন থেকে একজন বয়স্ক মানুষ বললো, আর ভয় নেই। আমি তোমার বড় চাচা। রাস্তার পাশে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলে দেখে বাড়ি কাজের লোকজন তোমাকে বাড়িতে নিয়ে
এসেছে। বড় চাচাকে গত রাতের ঘটনা বলতেই মাওলানা মানুষটি জানালো- “বহুকাল আগে ঐ বটগাছের আশে পাশে জনবসতি ছিলো। গাছের নিচে হাট বসতো। মানুষ নিজের বাড়ির জিনিস-পত্র কেনা-বেচা করার জন্য বিকাল হলেই হাটে নিয়ে আসতো। তিনটি রাস্তার সংযোগস্থল হলো ঐ বটগাছতলা। সেখানে আসা মানুষরাও ছিলো তিন রকমের। এক দলের সাথে অন্য দলের ছিলো বিস্তর তফাৎ।
একদিন হাটে আসা তিনদলের মাঝেই কি নিয়ে যেন কথা কটাকাটি শুরু হয়। সেটাই শেষ মেষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নেয়। এক দল আরেক দলের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পরে। বহুমানুষ হতাহত হয়েছিলো, মারাও গিয়েছিলো বেশ কয়েকজন। আহতরা বাড়িতে ফিরে এলেও মৃতরা সেভাবেই পরে ছিলো। তাদের দলের মানুষরা অন্য দলের ভয়ে লাশ নিতে আসার সাহসও পায় নি। পরে লাশগুলোর শেষ ঠিকানা হয়েছে ছিলো শেয়াল কুকুরের পেট।
সেই থেকে বটগাছের নিচে কোন হাট বসে না। দাফন না হওয়া আত্মাগুলো এখন আমাবস্যার রাতে নিজেদের মাঝে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। মানুষজন আত্মাদের চিৎকার শুনতে পায়।”
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন