বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯
গল্প/কবিতা: ১৯টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৮

বিচারক স্কোরঃ ৩.১৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৫ / ৩.০

কেস নাম্বার-২৭৮৫৬

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

গল্পটা কাল্পনিক

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

অসমাধিত

ভৌতিক সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাত (মে ২০১৪)

মোট ভোট ২২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৮ আলোর প্রান্তে

সালমা সিদ্দিকা
comment ২০  favorite ১  import_contacts ১,৬৯০
ডিসিশন নেয়া শেষ, আজকে রাতেই কাজটা করবে রাসেল।
গত পরশুদিন ইমেইলে দিবার ছবি গুলো পাওয়ার পর থেকে পুরানো রাগ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। সুখী সুখী হাসিমুখে দিবার ছবিগুলো রাসেলকে ক্রুদ্ধ করে দিচ্ছে প্রতি মুহুর্তে।
মাথাটা দপ দপ করছে। আগুনের মত কিছু একটা যেন মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।
একটু আগেই রাসেল দুইটা প্যারাসিটামল খেয়েছে, একটু পর হয়তো মাথা ব্যথাটা ভালো হবে। ওর গা ঘামছে, একটার পর একটা সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে, কেন জানি অস্থিরতা ।
রাসেল নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। দিবা এখন অন্যের বউ, নিজের স্বামীর সাথে ঘনিষ্ট ছবি তুলতেই পারে। কিন্তু রাসেলের খালি মনে পড়ছে ঠিক এভাবে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে দিবা ওর জন্মদিনে ছবি তুলেছিল।
একসময় দিবা রাসেলের জীবনের সব কিছু ছিল। দিবাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে হবে ভাবলেই কেমন ভয় লাগত, দিবাকে শুধু একবার দেখার জন্য কত পাগলামি করেছে। কত ক্লাস মিস করে দিবার সাথে ঘুরেছে। কত রাত দিবার সাথে কথা বলে পার করেছে। দিবার সাথে পরিচয় হবার আগে অনেক বড় বড় কথা বলত বন্ধুদের সাথে। এইসব প্রেম ভালবাসা ফালতু ব্যাপার, একটা মেয়ের জন্য এত দিওয়ানা হবার কি আছে? অথচ দিবার সাথে প্রেম করা নিয়ে বন্ধুদের কত ফোঁড়ন কাটা কথা শুনেছে।
সেই দিবা দুই বছর আগে হঠাৎ রাসেলের সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে দিলো।
রাসেল কত অনুনয় করেছে, হাত জোড় করে ওকে ছেড়ে না যাবার জন্য বলেছে। বার বার জানতে চেষ্টা করেছে কেন দিবা সম্পর্ক ভাঙ্গতে চায়।
'তুমি আমার উপর বড় বেশি ডিপেন্ডেন্ট, আমার কেমন দম বন্ধ লাগে। আমাদের রিলেশানশিপের কোনো ভবিষ্যত নেই। কেমন যেন একঘেয়ে লাগে সব।‘ ঠান্ডা ছুরি বুকে বিঁধিয়ে দেয়ার মত নির্বিকার উত্তর দিবার।কি অদ্ভুত কারণ একটা সম্পর্ক ভাঙ্গার!
এর পর অনেক প্রশ্ন উত্তর, অনেক যুক্তি তর্ক , অনেক ফোন কল ,অনেক আকুতি মিনতি - কোনো কিছুতেই দিবাকে আটকে রাখা যায়নি।
এত বড় একটা আঘাতের পর বেশ কিছুদিন রাসেলের দিন রাত গুলো ঠিক কিভাবে কেটেছে রাসেল ঠিক মনে করতে পারে না। অনেকবার মনে হয়েছে এই প্রচন্ড কষ্টের চেয়ে আত্মহত্যা করা অনেক ভালো।
ঘরের দরজা বন্ধ করে অনেক কেঁদেছে, একসময় চোখ শুধু জ্বলতো, পানি পড়তো না। কি ভয়ংকর কষ্টের সেই দিনগুলো। তার মা সব সময় বলতো, ভালো কাজ করলে মানুষের সাথে ভালো হয়, রাসেল তেমন কোনো খারাপ কাজ কখনো করেনি, তাহলে সৃষ্টিকর্তা ওর ভাগ্যে এত কষ্ট কেন রেখেছে , এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতো।
একসময় মনে হতো প্রতিশোধ নিলে কেমন হয়? যে মেয়ে তার সাথে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করলো, তার কি শাস্তি প্রাপ্য না?
রাসেল সেটা করতে পারেনি। কেন পারেনি রাসেল নিজেও জানে না। হয়তো সেই সাহস ওর ছিল না অথবা দিবার ক্ষতি করার কথা ভাবতে পারেনি।নিজের ক্ষতি যা করার করে ফেলেছে, মেডিকেল সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষা মিস করে একবছর পিছিয়ে গেছে, নানান রকম ড্রাগসের সাথে পরিচিত হয়েছে।
পরশু দুপুরে হঠাৎ ক্লাসমেট নিশির ইমেইল পেয়ে চমকে গেল রাসেল। নিশি লিখেছে, ‘আজকে একটা সারপ্রাইজ দেবো। তোর্ দিবাকে আজকে ইওসেমেইট হলিডে পার্কে দেখলাম। আমাকে দেখে চিনতে পারেনি।কিন্তু আমার ওকে ভালই মনে আছে। অল্প সময়ে বন্ধুত্ব হয়ে গেল। তোর দেখতে ইচ্ছা করে না দিবা কেমন আছে? তোর জন্য কিছু ছবি পাঠালাম। মনে হয় তোর ভালো লাগবে।‘
দিবা আমেরিকা থাকে এটা রাসেল জানে। এর বেশি কিছু জানার ইচ্ছা জাগেনি অথবা সাহস পায়নি। জীবনের ওই যন্ত্রনাময় অংশটার সামনা সামনি হবার ইচ্ছা রাসেলের নেই।
নিশি রাসেলের ভালো বন্ধু ছিল। কিন্তু নিশি রাসেলকে ভালবাসত, এক বন্ধুর মাধ্যমে ব্যাপারটা রাসেলকে জানিয়েছিলো। রাসেল তখন দিবার প্রেমে অন্ধ। ভিশন দম্ভ নিয়ে সেদিন বলেছিল, 'নিশিকে বলিস নিজের চেহারাটা দেখে যেন প্রেম করতে আসে। ও কিভাবে ভাবলো আমি ওর সাথে প্রেম করব? ও আমার গার্লফ্রেন্ডের নখেরও যোগ্য না।‘
কথাগুলো নিশির কানে চলে যাবে রাসেল ভাবেনি। পরে অবশ্য ক্ষমা চেয়েছে অনেকবার নিশির কাছে। দিবার সাথে একদিন পরিচয়ও করিয়ে দিয়েছিল। আজকের ইমেইলটা পরে মনে হচ্ছে রাসেলকে এখনো ক্ষমা করেনি নিশি।'তোর দিবা' বলে আহত করতে চেয়েছে রাসেলকে। দিবাকে দেখে হয়ত মনে মনে হেসেছে রাসেলের সেইসব কথাগুলো মনে করে।
রাসেলের মাথা একটু হালকা হয়েছে, প্যারাসিটামলটা মনে হয় কাজে লেগেছে। মনে মনে নিজের উপর ওর হাসি পায়।নিশি অনেক বড়লোক এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে আমেরিকাতে অনেক ভালো আছে, শুনেছে রাসেল। আর রাসেল এখনো দিবার ছবি দেখে জ্বলে পুড়ে মরছে।
দিবার ভালো থাকার কথা, তার সাফল্যময় ক্যারিয়ারের কথা ইমেইলে জানিয়েছে নিশি। রাসেলকে নিঃশেষ করে দিয়ে এত ভালো থাকার অধিকার কি দিবার আছে? রাসেলের মনের কোণে কোথাও কি একটা ক্ষিণ আশা ছিল যে দিবা একদিন বুঝবে রাসেল ওকে কত বেশি ভালবাসত, একদিন ঠিকই দিবা ফিরে আসবে রাসেলের কাছে? এখনো কেন এই আশা নিয়ে থাকবে রাসেল?ও ধরেই নিয়েছিল রাসেলকে ছাড়া দিবা কখনোই ভালো থাকতে পারবে না।কিন্তু দিবা অনেক সুখী, অনেক সফল। ওর জীবনে কোথাও রাসেলের ছায়াও নেই।
রাসেলের জীবনে যে পরিবর্তন আসেনি , তা নয়। রাসেলের জীবনে অদিতি এসেছে । দুমাস পরেই অদিতির সাথে ওর বিয়ে।
অদিতির মত মেয়ে কোটিতে একটা পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ। কিছু মানুষ থাকে যারা আলোর মত অথবা মিষ্টি গানের মত, যেখানেই যাবে আলো আর গানে চারপাশ ভরিয়ে দেবে। সব অন্ধকার , সব বিষন্নতা দূর হয়ে যাবে। এইরকম একটা মেয়ে কেমন করে রাসেলের জীবনে আসলো ও নিজেও ঠিক মেলাতে পারে না। অদিতি কোনো দুঃসময়ে রাসেলের হাত ধরে যদি বলে 'চিন্তা করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে', তখন অদিতির চোখ দেখলে বিশ্বাস করতে হয় আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

এত ভালো একটা মেয়ের ভালবাসার চেয়ে দিবার প্রতি ঘৃনা কেন যে এত প্রকট হয়ে ওঠে ওর মনে, রাসেল বুঝতে পারে না।
রাসেল কি দিবার মত এত সফল হতে পেরেছে জীবনে? ভয়ংকর বিষন্নতার জাল ছিড়ে অনেক কষ্টে বেরিয়ে আসতে পেরেছে, মাঝে মাঝে মনে হয় সত্যি কি পেরেছে? এখনো দিনে অন্তত একবার হলেও দিবার কথা মনে পড়ে , বন্ধুরা বলে, ‘গেট ওভার হার’, রাসেল ভাবে, এতই কি সোজা?

মেডিকেল থেকে পাস করার পর সাভারে একটা প্রাইভেট হসপিটালে রোগী দেখে, ভালই আয় হয়।অত বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষা ওর নেই। যা আছে ভালই তো চলছে। তার দূরদর্শী বাবার করা উত্তরার বাড়ির ভাড়া আর ওর আয়ে স্বচ্ছল জীবন। মা এবং বোনকে নিয়ে আপাত দৃষ্টিতে সুখী পরিবার।
কিন্তু দিবাকে এত সুখী দেখতে চায় না রাসেল। একটুও না। কি ভয়ংকর কষ্ট দিয়েছে এই মেয়েটা, তাকে শাস্তি পেতেই হবে।
কিছুই করবে না, শুধু একটা ইমেইল করবে দিবার হাসব্যান্ডকে। ইমেইল এড্রেস যোগাড় করেছে। একটা ভিডিও এটাচ করে দিবে ইমেইলটার সাথে আর সাবজেক্ট এ লিখবে, ‘দেখেন আপনার বৌএর নষ্টামি'. পৃথিবীর কোনো স্বামী তার স্ত্রীর এইরকম কার্যকলাপ দেখলে সহ্য করবে না। এরপর দিবার উপর একটা ঝড় বয়ে যাবে। কি করবে দিবা? মনে মনে হাজার অভিশাপ দেবে রাসেলকে? ক্ষিপ্ত হয়ে ফোন করবে? হাহা করে হাসবে তখন রাসেল, হিস হিস করে বলবে, 'কেমন লাগছে এখন দিবা?'
হার্ড ড্রাইভ টা টেবিল এর উপরের ড্রয়ারে তালা লাগানো আছে। চাবিটা খুঁজতে থাকে রাসেল, বুকের ভেতর নিষিদ্ধ উত্তেজনা ঢিব ঢিব করে।
এই হার্ড ড্রাইভে দিবার সাথে তোলা অসংখ্য ছবি আর বেশ কিছু অন্তরঙ্গ ভিডিও ক্লিপ আছে। সেখান থেকে একটা ভিডিও ক্লিপ বেছে নিতে হবে।
একদম নীচের ড্রয়ারের কোনায় চাবিটা খুঁজে পায় রাসেল। হঠাৎ সেখানে একটা খাম চোখে পড়ে। লাল রঙের খামটা কয়েকদিন আগে অদিতি দিয়েছিল।এখনো খোলা হয়নি।
খামের ভেতর অদিতির লেখা একটা চিঠি।
‘প্রিয় রাসেল
চিঠি দেখে কি অবাক হচ্ছো ? ভাবছ এই টেক্সট, ইমেইল, ফেইসবুক আর স্কাইপের যুগে কেউ চিঠি লেখে? কি করব, অনেকদিনের সখ আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে চিঠি লিখব। অনেক কথা চিঠিতে বলা সহজ, তাই আমি ঠিক করেছি, তোমাকে সব সময় চিঠি লিখব, তুমি উত্তর না দিলেও।
তুমি সব সময় বল আমি নাকি খুব বেশি ভালো, এত ভালো হলে পদে পদে বিপদ! কিন্তু জানো, আমার কাছে তুমি ফিল্টার মেশিনের মত। তোমার কাছে এসে আমি শুদ্ধ হয়ে যাই। আমার ভাগ্য নিশ্চই ভালো তাই তোমার সাথে সারাজীবনের বন্ধুত্ব হয়েছে। বন্ধুইত হতে চাই আমি তোমার। অন্যান্য বৌদের মত তোমার উপর ছড়ি ঘোরাতে চাই না। তোমার হাত ধরে চলতে চাই।
তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল কবে তুমি কি জানো? প্রায় দুবছর আগে বাবা যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তখন একদিন ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখানোর জন্য ওয়েটিং রুমে বসে ছিলাম, হঠাৎ দরজায় সুনলাম হৈচৈ।আট-নয় বছরের একটা ছেলেকে কলে নিয়ে তুমি পাগলের মত দৌড়ে ইমারজেনসিতে যাচ্ছো, ছেলেটার রোড এক্সিডেন্ট হয়েছে, সারা গায়ে রক্ত, তোমার সারা গায়েও রক্ত।তোমার পেছনে সেই ছেলেটার মা কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছে।
বাবা যে ওয়ারড়ে ছিলেন, সেই ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে ছেলেটার জায়গা হলো। জানতে পারলাম কোনো এক ভিক্ষুক মহিলার ছেলে, রাস্তায় ট্রাকের নিচে পড়েছে। তোমার সামনেই ঘটনা ঘটেছিলো, তুমিই ছেলেটাকে রাস্তা থেকে তুলে হসপিটালে নিয়ে এসেছো। তুমি তখন হাসপাতালের ইন্টার্নি ডাক্তার। ছেলের হত দরিদ্র মা ছেলের বেডের রেলিং ধরে শুধু কাঁদত। উমি উদভ্রান্তের মত ছুটাছুটি করছো ছেলেটাকে বাঁচানোর জন্য। ছেলেটার রক্ত প্রয়োজন, ঔষধ প্রয়োজন, তুমি অন্যান্য সব ডাক্তারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে সব কিছুর যোগাড় করছো। বাবার পাশে বসে বসে আমি দেখতাম তোমার কি আন্তরিক প্রচেষ্টা ছেলেটাকে বাঁচানোর। আসে পাশে অনেকে বলতো, নতুন ডাক্তার তো, তাই এত দরদ।
বাবাকে যেদিন রিলিজ করলো সেদিন দুপুরে ছেলেটা মারা গেল। তোমার শত চেষ্টাতেও বাঁচানো গেল না।ছেলের মায়ের সেকি বুক ফাটা কান্না। আর তার পাশে দাড়িয়ে তুমিও কাঁদছ। আমার যে কি মায়া লাগলো। ভিশন ইচ্ছা করছিল তোমার হাত ধরে বলি, আপনি প্লিজ কাঁদবেন না।আমি আপনার সাথে আছি।
আমি সেদিন বলতে পারিনি। তোমাকে কোনো সাহায্য করতে পারিনি। আমার খুব লজ্জা লাগে ভাবতে সেদিন একটাবারো আমি এগিয়ে যাইনি তোমার দিকে। তাই এই কথাগুলো তোমাকে কখনো বলতে পারিনি। কিন্তু আমি তোমার সব ভালো কাজে সব সময় তোমার সাথে থাকতে চাই আজীবন। তুমি শুধু একটা কাজ করবে? সেই দিনের সেই মমতাময় একজন মানুষ হয়ে থাকবে সারাজীবন? যে মানুষ অন্যের দু: খে হাত বাড়িয়ে দেয়, সেই মানুষ হয়ে থাকবে সব সময়? আমি এর বেশি কিছুই চাই না। এই রকম একটা মানুষের পাশে থাকতে চাই। এরচেয়ে আনন্দের আর কি হবে আমার?
একটা কাজ করবে?সামনে পহেলা বৈশাখ, তোমার কি মনে আছে? ওইদিন খুব সকালে আমার সাথে দেখা করবে? আমি ঠিক সকাল আটটায় তোমার জন্য টিএসসিতে অপেক্ষা করব। আমি শুদ্ধ একটা মানুষের সাথে এই বছরে ঘর বাঁধতে যাচ্ছি, তার উৎসব করব আমরা একসাথে। তুমি আসবে তো?
তোমার অদিতি’

চিঠিটা পড়ে মনে মনে উত্তর দেয় রাসেল, ‘অদিতি তুমি যাকে শুদ্ধ ভাব, সেই মানুষটার মধ্যে কত পাপ আছে তুমি কি জানো ? তুমি কি জানো, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ আর টেস্ট করতে দেই আমি রোগীদের, কারণ কমিশনের একটা ভালো অংকের টাকা আমার পকেটে আসে? আমি এখন রোগীদের সাহায্য করতে যাই না, রোগীদের টাকার মেশিন মনে করি, তাদের দুর্বলতার সুযোগ নেই।মানুষ যখন অসহায় হয়ে কাঁদে, আমার মায়া হয়না বরং বিরক্ত লাগে।
তুমি আমাকে তোমার ফিল্টার মেশিন ভাব, কিন্তু তুমি কি জানো আমি সুযোগ পেলেই মেয়ে মানুষ নিয়ে ফুর্তি করি? সুযোগ পেলেই এলকোহল গিলি? পুরনো প্রেমিকার সাথে তোলা অন্তরঙ্গ ভিডিও দিয়ে তার সংসার ভাঙ্গতে চাই? এরপরও আমাকে শুদ্ধ বলবে?’
রাত বাড়ে, অন্ধকার ঘরে একের পর এক সিগারেট ধরায় রাসেল। নিকষ অন্ধকারে শুধু ওই সিগারেটের আলো জ্বলতে নিভতে থাকে।

আঁধার পেরিয়ে যখন আলো ফুটতে শুরু করলো, তখন রাসেলের মনে পড়লো আজকেই পহেলা বৈশাখ।
কেউ ঘুম ভেঙ্গে উঠার আগেই রাস্তায় নেমে পড়ল রাসেল, কোথায় যাবে ঠিক করা নেই।আকাশে একটু একটু করে আলো ছড়াতে শুরু করেছে।
ওদের বাড়ির কাছেই একটা লেক, আলো আঁধারি মেশানো শান্ত পানি টলমল। রাসেলের হাতে ধরা হার্ড ড্রাইভটা ছুড়ে মারলো লেকের পানিতে, একটু আলোড়ন তুলে সেটা হারিয়ে গেল গভীরে।
রাসেল হাঁটতে থাকে, অসীম প্রত্যাশায় সকালের অপেক্ষা করে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন