বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৭

কাঙালিনী

  • শহর থেকে একটু দূরে, চন্দ্রার বাড়ী।বাড়ী বললে ভুল হবে,খড়ের এটি ঘর,চারদিকই খোলা।সেখানেই বাস করে চন্দ্রা ও তার দুধের মেয়ে শান্তি! সূর্য তখনও ওঠেনি।দূর থেকে ভেসে আসছে সকালের আজানের ধ্বনি।প্রতিদিনের মত,আজও চন্দ্রা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ওঠে গেল।পাশেই একটা ছোট পুকুর,পুকুরের পাশে ছোট ঝোপ,সেই ঝোপেই চন্দ্রা যায়।কিন্তু প্রকৃতি আজ সাড়া দিল না।দেবে কেন?আজ দেড়দিন তার পেটে কিছুই পড়েনি। চন্দ্রা ঘরে ফিরে এল। হায় চন্দ্রা! ঘরে এসে দেখলো,শিশু চিৎকার করে কাঁন্নায় আর্তনাদ করছে।আর্তনাদ করে বলছে, মা,আমাকে দুধ দাউ,দুধ দাউ।মা দুধ কোথায় পাবে?দেড়দিন খাইনি,দুধ শুকিয়ে গেছে। চন্দ্রা জানে, বুকে দুধ নেই;তবুও বুক এগিয়ে দিল। শিশু চুক চুক করে টানতে লাগলো।দুধ নেই,তবুও মনে হল শিশু যেন, তৃপ্তি সহকারে টানছে। শিশুটি চিৎকার করে উঠলো।আর্তনাদ করে আবার বলতে লাগলো, মা দুধ দাউ,দুধ দাউ। চন্দ্রার কপালটাই খারাপ।বিয়ের পনের দিন পর স্বামি ঘর ছাড়লো,তাকে কে খাবার দেবে?নিজের খাবার,নিজেই সংগ্রহ করতে,কাজের সন্ধানে বের হল।আবার সেই ঝি এর কাজ। কিন্তু কেউ কাজ দেই না; বলে, তোকে ত চিনিনে,কেমন করে কাজ দেব, তুই চোর না বাটপার,কী করে বোঝব ? আবার যদি ভিক্ষের জন্য বেরই,বলে,মদ্দা জোয়ান মেয়ে,ভিক্ষে করতে লজ্জা লাগে না?যা ভাগ,ভাগ এখান থেকে।চন্দ্রা খুব শক্ত,কিন্তু নরম হৃদয়ের মেয়ে।সে কাউকেই দোষ দেয় না।সব কিছুই ফেলে দেয় তার নিজের কপালের উপর। শিশুটি কাঁদছে, চিৎকার করে কাঁদছে, চন্দ্রা কাঁন্না থামাবার চেষ্টা করছে, একবার কোলে নিচ্ছে,একবার বুকে নিচ্ছে।কখনও বলছে, সোনামনি,মা আমার, আর কাদিঁসনে,আমি তোকে দুধ এনে দেব।কিন্তু শিশুটির কান্না থামে না।সে আরও চিৎকার করে কাঁদতে থাকে।তার কাঁন্না ক্ষুধার যন্ত্রণার কাঁন্না, তার কাঁন্না অধিকার আদায়ের কাঁন্না।সমান্য দুধের অধিকার!ক্ষুধার যন্ত্রণা হতে মুক্তি লাভের অধিকার! তার কাঁন্না প্রতিবাদের কাঁন্না;তার কাঁন্না অধিকার প্রতিষ্ঠার কাঁন্না-তার কাঁন্না আত্ম স্বীকৃতির কাঁন্না।তার কাঁন্না আকাশ,বাতাস প্রম্পিত হয়;চন্দ্রার কর্ণ বিদীর্ন হয়।অসহ্য যন্ত্রনা অনুভব হয় চন্দ্রার।সে আর সহ্য করতে পারে না,শিশুটির মুখ চেপে ধরে, বলে, কাঁদবি,কাঁদ।আর কত কাঁদবি কাঁদ। স্তব্দ হয়ে গেল পৃথিবী।থেমে গেল আত্ম স্বিকৃতির কাঁন্না, থেমে গেল অধিকার প্রতিষ্ঠার কাঁন্না।চলে গেল এ পৃথিবী ছেড়ে, চন্দ্রার মেয়ে, ঘৃনা করে, লজ্জা দিয়ে। চন্দ্রা তার মেয়েকে বুকে তুলে নিয়ে, ঘর থেকে বেরিয়ে এল।আকাশের দিকে তাকালো।তারপর বিড়বিড় করে বলতে থাকলো, তোমরা দেখ,দেখ, আমার মেয়ের আর ক্ষুধার যন্ত্রণা নেই;সে আর দুধের জন্য কাঁদছে না,দুধের জন্য আর কাঁদছে না................