বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭০

অনেক কথা ১৫

  • মানুষ ও শয়তান--

    * অমানুষি করা সহজ কিন্তু মানুষ বনা কঠিন। ‘মানুষ যতই শয়তান হোক সবখানে কিন্তু শয়তানি করবে না আর শয়তান যতই মহাপুরুষের পরিচয় দিক তাকে কখনো মহৎ ভাবা যাবে না।’ কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু মানুষ আর অমানুষের মধ্যে যদ্দূর তফাত, শয়তান আর শয়তানির মধ্যেও তদ্দূর পার্থক্য নেই। কিছু কিছু মানুষের শয়তানি তবে সহ্য করা গেলেও কিছু কিছু মানুষের কর্মকাণ্ড একেবারে অসহ্য। শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করার কাজ করে ঠিক তবে কিছু কিছু মানুষের মতো বোধহয় অত প্রলুব্ধ এবং পাষণ্ড নয়।

    সংসারে বড় হয়েছ? তোমার দায়িত্ব অনেক! সকল দায়দায়িত্ব পালন করবে ঠিক তবে নিজের কথা কিছু মনে রেখো। আজ তুমি বলবান, অর্থকড়িও ঢের আছে--কাল হয়ত এসব নাও থাকতে পারে। পারে মানে কী? অবশ্য থাকবে না। সুতরাং সংসারের জন্যে কিছু করো, তবে অতিরিক্ত এমন কিছু করো না যার খেসারত হয় তোমার প্রাণ! ভাই আজ দুর্বল-আশ্রয়হীন বলে ফেরেশতা; কাল কিন্তু সম্পূর্ণ হতে দেরি নেই; মনে করো, তখন শয়তান হতেও দেরি নেই। অর্থের মোহে মানুষ সবকিছু ভুলতে পারে এবং সবকিছু করতে পারে। কাজেই, জেনেশুনে বিষ পান করা ভাল নয়। ঈশ্বর তোমাকে প্রতিদান দেবেন, তবে, তার আগে বোধহয় তোমার জন্যে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

    ‘মূর্খ ভাইয়ের চেয়ে জ্ঞানী শত্রু ভাল’ গুণী জনদের কথা যারা বুঝে না তারাই মূর্খ। দুনিয়াটা বেইমানের আস্তানা। ভাই ভাইয়ের সঙ্গে করছে বেইমানি! বন্ধু বন্ধুর সঙ্গে করছে বেইমানি! পিতা পুত্রকে ঠকাচ্ছে! সুযোগ পেলে পুত্র পিতার থেকে সব কেড়ে নিচ্ছে! মা অন্য ছেলেমেয়েদের সঙ্গে জুটে অন্য ছেলেমেয়ের উপর জুলুম করছে! দুনিয়াটা শয়তানের কারখানা! নিজের স্বার্থের বেলায় সব ঠিক, অন্যের স্বার্থ এলে বেঠিক। মা বল, বাপ বল, ভাই বল, বোন বল, বন্ধু বল--আত্মীয়স্বজন ছেড়েই দিলাম, স্বার্থ উদ্ধার হলে ‘তুমি কে’ চিনে না আর। তবে খুব অল্প সংখ্যক লোক আছে যাঁরা বিপরীত--তাঁরা কৃতজ্ঞ, তাঁরা পরোপকারী এবং তাঁরাই জ্ঞানী। দুনিয়াতে কেউ বড় হয়ে থাকতে পারেনি এবং ধনৈশ্বর্য কেউ সঙ্গে নিতে পারেনি। খালি হাতে আগমন এবং খালি হাতেই গমন। এই যে মধ্যিখানের কিছু সময় সেটাই হল উপার্জন। ভাল করলে ত ভাল আর মন্দ করলে মন্দ। ‘নিজে সঠিক হতে পারলে সবকিছু সঠিক’ তবে কিছু ক্ষেত্রে নিজে সঠিক জায়গায় থাকলেও অন্যরা সঠিক পথে থাকে না। একটা কথা মানুষ মনে রাখে না! সময় আর পরিস্থিতি কারও বন্ধু হয় না এবং কাকে ক্ষমা করে না। প্রকৃতি বড়ই নিষ্ঠুর। আজ তুমি ক্ষমতাবান--সবকিছু তোমার দখলে এবং নিয়ন্ত্রণের চাবি তোমার হাতে; কাল কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যেতে এক পল সময় লাগবে না! যে অতীত বুঝে না এবং নিজের স্বার্থ ভাল বুঝে তার কপালে চরম দুঃখ আছে। আফসোস তবে তার জন্যে...



    জিয়ন মানে জীবন নয়। জিয়ন আর জীবনের পার্থক্য অনেক। অল্প পানিতেও মাছ জিয়ে থাকে। তবে জিয়ে থাকা মানে বাঁচন নয়। তিনটা জিনিসে একজন মানুষ সুখী--নিজের সুনাম, প্রতিপত্তি ও সুন্দর জীবনযাপন। এ তিনটে জিনিস যে পায় সে ভাগ্যবান। জিয়ে ত সবাই কিন্তু জিয়নের মতো জীবন পাওয়া দুরূহব্যাপার, যা খুব কম মানুষের ভাগ্যে জুটে। সবাই মানুষ হলেও মনুষ্যত্ব সবার নেই। মানুষ মন থাকা সত্ত্বেও বড় কঠিন দিলের হয়! আমরা ত স্রষ্টার প্রতিও কৃতজ্ঞ নই, তা হলে সৃষ্টির প্রতি মুগ্ধ হই কেমন করে! উপকার করলে অপকার গাওয়া আমাদের স্বভাব। তাই বলে উপকার থেকে মুখ ফিরাব তা কিন্তু মনুষ্যত্বের খেলাপ। এ ক্ষেত্রটা উপহাসের জায়গা নয়, উপার্জনের জায়গা; যা উপার্জন করবে তা-ই প্রাপ্য হবে এবং যা ক্ষতি করবে তা ভরে যেতে হবে। ভুল করলে মাসুল না দিয়ে উপায় নেই। তবে, আঘাতের দরদ যত বেদনাদায়কই হোকনা কেন, আফসোস করতে নেই; চিন্তা আর আফসোস আত্মবিশ্বাসকে দুর্বল করে দেয়। আজ তোমাকে যে আঘাত করছে, কাল অই-ই আঘাতের ব্যথায় ব্যথিত হবে সে। এ দুনিয়াটা ওলটপালটের জায়গা। কাকে দুঃখ দিলে নিজেই সুখ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। কাকে অপমান করলে নিজেই অপমানিত হতে হয়। সুতরাং কাকে বড় করতে না পারলেও ছোট করা ঠিক না। ভাল নাইবা বাসলে কিন্তু কাকে হিংসা করা ভাল না। অহংকার মানুষের জন্য নয়। মানুষ ত খুবই সামান্য জীব। তুমি আমি যত বড়ই বা শত্তিশালীই হইনা কেন, ক্ষুদ্র একটি পিঁপড়ের কামড়ে ধ্বংস হতে পারি। তাই নিজেকে বড় না ভেবে ছোট বুঝতে শিখা উত্তম। জীবন ত এতটুকুই, আজ আছি ত কাল নেই। হিংসা-প্রতিহিংসা সমস্ত মঙ্গলপথ ধ্বংস করে দেয়। তবে? লেনদেনের পরিধি বাড়িয়ে লাভ কি। এটুকু জীবনে সবকিছু পাওয়া যেমন সম্ভব না তেমন সবকিছু চুকিয়ে যাওয়াও ত অসম্ভব। অবশেষে দুটো কথা বলি--

    ‘জীবনে যার কমে না হায় হায়
    পড়ে থাকবে সে দুঃখদুর্দশায়।’

    চলবে...