আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয়“অন্ধ”

কবিতার বিষয়“অন্ধত্ব”

লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী

বিশেষ সংখ্যার বিষয়

“শহীদ দিবস”

লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

গল্পকবিতা ডিসেম্বর ২০১৭ সংখ্যা : " প্রশ্ন / কষ্ট " এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

১৭ জানুয়ারী প্রসেসসর

গল্পকবিতা ডিসেম্বর ২০১৭ সংখ্যা : " প্রশ্ন / কষ্ট " এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


বিচারক ও পাঠকের ভোটে সেরা ৩টি গল্পঃ


"অবান্তর প্রশ্ন"- হাবিবুর রহমান
"নীল নক্ষত্র"- মুশফিক রুবেল
"একাত্তরের দশরথ" - মিলন বনিক


সেরা ৩টা কবিতাঃ


"পারমিতা" - এস. ইমাম মেহেদী হাসান
"স্মৃতির জলে ভেজা হারানো শৈশব" - মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
"তবুও আমি আর কাঁদবো না" - জসীম উদ্দীন মুহম্মদ


সবাইকে গল্পকবিতা এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন। বিজয়ীরা পাচ্ছেন :

প্রথম গল্প ও কবিতার জন্য পুরস্কার: প্রতিটি ১৫০০ টাকার প্রাইজবন্ড এবং সনদপত্র
দ্বিতীয় গল্প ও কবিতার জন্য পুরস্কার: প্রতিটি ১০০০ টাকার প্রাইজবন্ড এবং সনদপত্র
তৃতীয় গল্প ও কবিতার জন্য পুরস্কার: ১টি করে সনদপত্র



গল্প কবিতা ডটকম-এর গল্প-কবিতা প্রতিযোগিতা
ডিসেম্বর ২০১৭ সংখ্যার গল্পের বিষয় ‘ প্রশ্ন ’-এর মূল্যায়ন
১.
সৃষ্টির আদিকাল থেকে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জেগেছে। সেইসব প্রশ্নের উত্তরের সন্ধান করেছে সে। এভাবে এগিয়েছে সমাজ ও সভ্যতা। কোনো কোনো প্রশ্ন আবার থেকে যায় আঁধারেই। উত্তর মেলে না। এই প্রশ্নকে সামনে রেখে যারা গল্প লিখেছেন, তারা কেউ কেউ চমৎকার গল্প উপহার দিয়েছেন আমাদের। যেমন ‘অবান্তর প্রশ্ন’ গল্পটি। এখানে প্রশ্ন ও কষ্ট একাকার। এই গল্পে আগামী দিনের একটি চিত্র ফুটে উটেছে- যখন ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ পৃথিবীতে নেমে আসবে। অধিকাংশ মানুষের মধ্যে মানবিক বোধ লুপ্ত হবে, কাজ-কর্মে মানুষের ব্যবহার শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে, ছোটদের ব্যবহার করা হবে অধিক হারে। তখন সংখ্যালঘুদের হত্যা করা হবে ছোটদের ...। এই গল্পে তেমনই এক সংখ্যালঘু মানুষের কষ্ট ফুটে উঠেছে। সে শিশু-সন্তানকে হারিয়ে বিধাতার কাছে প্রশ্ন করে, এই ত্যাগ কৈফিয়ত বয়ে। কিন্তু এই প্রশ্ন তো অবান্তর। কেননা তার এই অবস্থায় জন্য মানুষই দায়ী, দায়ী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। এই গল্প পাঠক পাঠকদের বোধে, বেদনার, প্রচন্ডভাবে হয়তো রোহিঙ্গাদের মুখ ভেসে উঠবে।

‘মনে কী দ্বিধা’- ভালো গল্প। যখন নারী স্তনক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পরেও বিষয়টি স্বামী কিংবা চিকিৎসকের কাছে প্রকাশ করে না। কেন? একজন নারীকে যদি ঘর-সংসার অফিস, সামাজিক-পারিবারিক দায়িত্ব, মেয়ের পড়াশুনা-সবই একা মাসলাতে হয়, কাছের মানুষ যদি তার দিকে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়, তবে এমনই হওয়াটা তো স্বাভাবিক।... ‘প্রশ্ন’ ও মিষ্টি নিয়ে অনাছিস্টি’-ও খারাপ নয়। দ্বিতীয় গল্পটি রম্য গল্প।

এবার ‘কষ্ট’ বিষয়ক গল্প। ‘মাধবীলতা’ গল্পটি নান্দনিক দ্যুতিতে উদ্ভাসিত। বনফুলের ‘পাঠকের মৃত্যু’-র রেফারেন্স ব্যবহার করে সমাপ্তি টানা হয়েছে। কিন্তু এই গল্পে যে বার্তা মূর্ত হয়ে উঠেছে তা নেতিবাচক। বিয়ে মানেই কি নারীদের স্বাধীনতা হারানো ? বন্দিত্ব বরণ ? মাধবী বিয়ে করেছে বলে তার বান্ধবী চমকে ওঠে। পরিপূর্ণ গৃহিণীর মতো মাধবী যখন নিজের গল্প শোনায় তখন তার বান্ধবীর মনে হয় এই মাধবীকে সে চায় নি, যে স্বাধীনতা চাইত, মুক্তি চাইত বন্দিত্ব থেকে। কিন্তু এই মাধবীর মধ্যে তো কোনো কষ্ট নেই, সংসারজীবনে সে অসুখীও নয়। সব পুরুষ তো খারাপ নয়। নিশ্চয়ই মাধবীর স্বামী তার মনের মতোই হয়েছে। ... ‘ভাঙা আয়না’-র মধ্যে ১৯৭১ ও ২০১৭ সমান্তরাল বয়ে চলেছে। তাইতো নাতনী মিথিলার সমস্যা, তার আতঙ্ক (মিথিলার এক বান্ধবীকে পথ থেকে তুলে ধর্ষণ এবং হত্যা করা হয়েছে। সে নিজেও ইভটিজিংয়ের শিকার) বোঝে তার দিদা সুলেখা। তবে গল্পে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সুলেখার ওপর যে নৃশংস অত্যাচারের বর্ণনা রয়েছে, তাতে তো তার বেঁচে থাকার কথা নয়।...‘নীল নক্ষত্র’- এর নীলা অবশ্য প্রতিবাদী। সে উত্যক্তকারীদের হত্যা করে। বিচারে নীলার ফাঁসি হয়। কিন্তু তার পরিবারের মানুষেরা তো সারাজীবনই এক অব্যক্ত বেদনা বয়ে বেড়াবে।

চমৎকার গল্প ‘অপরাহ্ন প্রসূন’ এবং ‘একাত্তরের দশরথ’। একটি গল্পে একজন পুরুষ যৌনকর্মীর প্রচ্ছন্ন বেদনাও লক্ষণীয়। আবার একটি গল্পে এমন একটি দেশের চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে মানুষের কষ্ট নেই, সমাজ ব্যবস্থায় অসংগতি নেই যা দেখে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। সেই গল্পটির নাম ‘হাঙ্গারোয়া’।
এই সংখ্যায় যারা ‘প্রশ্ন/কষ্ট’-কে ঘিরে গল্প লিখেছেন অথবা লেখার চেষ্টা করেছেন, তাদের সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা। অভিনন্দন।


মোমিন রহমান

 

2.
মূল্যায়ন রিপোর্টঃ কবিতা
এবারের বিষয়ঃ কষ্ট


কবিতা কী? কবিতা কি লেখা যায়? নাকি কবিতা হয়ে ওঠে? কীভাবে রচিত হয় একটি কবিতা? এসব প্রশ্নের কোনো একটি সুনিদিষ্ট জবাব নেই। কারণ সব দেশে, সব যুগেই কবিতার নানান সংজ্ঞা হাজির করেছেন কবিরা। ফলে কোনটি কবিতা, কোনটি নয় তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।


সম্ভবত কবিতার জটিল, রহস্যময় ও বহুমাত্রিক অবয়বই বরাবর বিভ্রান্ত করে এসেছে পাঠক ও সমালোচকদেরকে। কবিতায় অর্থবোধক বাক্যের সমাবেশ থাকলেও তা কখনোই কোনো গদ্যের মতো অজটিল, সরল ও একরৈখিক ভাব প্রকাশ করে না। চিত্রকল্প, উপমা ও উৎপ্রেক্ষার সমাবেশ কবিতাকে করে তোলে আপাত রহস্যময় ও বহুবর্ণিল। একটি কবিতা যতো বহুমাত্রিক, তা ততো শিল্পসম্মত। অর্থাৎ একটি কবিতা যতো শিল্পমানসম্পন্ন, তা ততোটা বহুমাত্রিক। কবিতার সঙ্গে গদ্যের তফাৎটাই সম্ভবত এটি যে গদ্যের লক্ষ্য যেখানে একটিমাত্র অর্থ প্রকাশ করা, সেখানে কবিতার লক্ষ্য বহুমাত্রিক অর্থের দিকে যাওয়া।



তবে, গল্প হোক বা কবিতা- চর্চার গুরুর দিকে লেখক বা কবিকে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা ও কবি-লেখককে কবিতার ভাষা-ছন্দ্র-প্রকরণ ইত্যাদি নিয়ে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে। এবারের কবিতার বিষয় ছিলো দুটো- ‘প্রশ্ন/ কষ্ট’। নির্বাচিত বিষয়টির সঙ্গে কবির উপলব্ধির সংযোগ স্থাপিত না হলে কবিতা রচনার কাজটা কঠিন হতে বাধ্য। এবার সেরকমই হয়েছে, অনুমান করি। ‘প্রশ্ন’ বা ‘কষ্ট’ এ উপলব্ধি দুটি বেশিরভাগ কবিতাতেই তেমন মিললো না।


যে কয়েকজন বিষয়টিকে কবিতায় রূপান্তর করতে পেরেছেন তাদের আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

 

ফরিদ কবির।